• Sat. Jun 15th, 2024

aajkalki.com

Just know it…

Dengue fever and symptoms in kids. শিশু দের উপর ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে । উপসর্গ, প্রতিকার এবং করনীয় সম্বন্ধে জানুন এবং নিরাপদে থাকুন

Dengue symptoms in kids ডেঙ্গুর উপসর্গ

ডেঙ্গু জ্বর হল একটি ভাইরাস ঘটিত , মশা-বাহিত রোগ। সাধারণত প্রথমবার আক্রান্ত ক্ষেত্রে রোগীর বিশেষ কোন উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা যায় না। শুধু অল্প কিছু ক্ষেত্রেই রোগের প্রভাব গভীর হয়।

ডেঙ্গু জ্বর বাচ্চাদের কীভাবে প্রভাবিত করে?

বাচ্চারা কেউ  ডেঙ্গু জ্বরে সংক্রমিত হলেও বিশেষ কোনপ্রকার লক্ষণ দেখা হয় না। শিশু ও তরুণদের মধ্যে এর খুব আল্প লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়।

শিশু এবং বাচ্চাদের মধ্যে ডেঙ্গু রোগের কিছু লক্ষণ –

প্রথম ক্ষেত্রে এই জ্বরে অন্য সমস্ত ভাইরাল জ্বরে মত উপসর্গ দেখা যায় । ধীরে ধীরে উপসর্গ গূলী সুস্পষ্ট হয় যেমন

১)তীব্র জ্বর (104°F),

২)নাক বওয়া

৩) কাশি

৪)বমিভাব

৫)তীব্র মাথার যন্ত্রণা

৬)চোখের পিছনে ব্যথার অনুভূতি

৭)মাংসপেশি এবং অস্থি সন্ধিতে ব্যথার অনুভূতি

৮)বেশী খিটখিটে,  ঘ্যান-ঘ্যান করার প্রবনতা, অস্থির আচরণ ।

৯)গলার কাছে গ্রন্থি ফুলে যাওয়া ,

১০)ত্বকে বিভিন্ন স্থানে ফুসকুড়ি,

১১)মাথাঘোরা

১২)’ডায়েরিয়া,

১৩)প্লেটলেট (আনুচক্রিকা) কমে যাওয়া ইত্যাদি ।

এই উপসর্গ গুলি রোগ সংক্রমণের ৩ থেকে ১০ দিনের মধ্যে দেখা দেয়। এর উপসর্গ গুলি সাধারণত 2 থেকে 7 দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। দ্বিতীয় বার ডেঙ্গু তে আক্রান্ত হলে রোগের ভয়াভয়তা বৃদ্ধি পায়। সেই কারনে দ্বিতীয় বার  ডেঙ্গু তে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অতিরিক্ত সতর্কতা মেনে চলতে বলা হয়।

গুরুতর ডেঙ্গু এবং তার উপসর্গঃ

এ ক্ষেত্রে মাড়ি থেকে রক্ত বেরোনো, ত্বকে র্যা শ হওয়া এবং বমি হওয়া (দিনে তিন চার বারের চেয়ে বেশী), বমির সঙ্গে রক্ত বা মলের সঙ্গে রক্ত বের হওয়া , প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া , শ্বাসকষ্ট ।

 উপরিউক্ত উপসর্গ ছাড়াও ৮ থেকে ১০ বছরের বাচ্চাদের মধ্যে খিদে কমে যাওয়া , অবসাদ এই লক্ষণ গুলি বিশেষ ভাবে চোখে পড়ে ।

গুরুতর ক্ষেত্রে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার (HDF) হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই অবস্থায়, রক্তনালীগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্লেটলেটের মাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করে।

আরও তথ্য পেতে এবং যথাযথ তথ্য পূর্ণ মনেহলে নিচের Page link টি Like ও Follow করে উৎসাহিত করবেন , আগ্রিম ধন্যবাদ । ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন ।

https://www.facebook.com/aajkalkiadmin?mibextid=ZbWKwL

ডেঙ্গু জ্বরের কারন :

ডেঙ্গু জ্বর আরবোভাইরাস ও Flaviviridae পরিবার ভুক্ত ভাইরাস এর পভাবে হয় । এই ভাইরাস গুলি  এডিস মশার দ্বারা বাহিত হয়ে থাকে । স্ত্রী এডিস মশা ভাইরাসের বাহক হিসেবে কাজ করে, সংক্রমিত ব্যক্তি থেকে সুস্থ ব্যক্তিতে ।

ডেঙ্গুর মশা কোন সময় কামড়ায় ?

এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলা কামড়ায়। তারা বেশিরভাগই সারা দিনই কামড়ায়, তবে দেখা গেছে সর্বোচ্চ মশার কামড়ের সময় সকাল  ৭-৯ টার মধ্যে থাকে এবং তারপরে ৫-৭ টার মধ্যে আরও একটি শিখর থাকে।

সাধারণত ডেঙ্গু কীভাবে নির্ণয় করা হয় ?

১)কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC) : অসুখের পরবর্তী পর্যায়ে কম প্লেটলেট সংখ্যা খোঁজার জন্য এবং হিমোগ্লোবিন, হেমাটোক্রিট, এবং লোহিত রক্ত কণিকা (আরবিসি) সংখ্যা নির্ণয় (অ্যানিমিয়ার প্রমাণ) করতে কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট প্রক্রিয়া ব্যাবহার করা হয় ।

২) অ্যান্টিবডি পরীক্ষা :

আইজিএম এবং আইজিজি এর ঊপোশঠীটী পরীক্ষা । যখন একজন ব্যক্তি ভাইরাসের সংস্পর্শে আসে তখন ইমিউন সিস্টেম দ্বারা উত্পাদিত অ্যান্টিবডি সনাক্ত করা হয় । এক্সপোজারের কমপক্ষে 4 দিন পরে নিরীক্ষণ হলে এই পরীক্ষাগুলি সবচেয়ে কার্যকর।

৩) ডেঙ্গু ভাইরাস (পিসিআর) পরীক্ষা :

এই আণবিক পরীক্ষা-ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করে; এই পরীক্ষাগুলি উপসর্গ শুরু হওয়ার 7 দিন পর পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বর নির্ণয় করতে পারে এবং ডেঙ্গু ভাইরাসের 4 টি ভিন্ন প্রজাতির মধ্যে কোনটির সংক্রমণের কারণ তা নির্ধারণ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ডেঙ্গুতে প্লেটলেটের সংখ্যা সাধারণত কত হয়?

সএকজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের আনুচক্রিকা সংখ্যা হয় 150,000 থেকে 450,000 প্রতি microliter রক্তে।

উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ডেঙ্গু-আক্রান্ত রোগীদের এই সংখ্যা 20,000 এর নিচে চলে যেতে পারে। এই সময় রক্তপাতের ঝুঁকি সর্বোচ্চ হয়।

মাঝারি ঝুঁকি পূর্ণ রোগীদের আনুচক্রিকা সংখ্যা ২১-৪০,০০০/cumm  এর মধ্যে থাকে। অবশ্য ডেঙ্গু সংক্রমণে অনেক ক্ষেত্রেই প্লেটলেট সংখ্যার দ্রুত পরিবর্তন হয়।

আনুচক্রিকা সংখ্যা  ১0,000 এর কম হলে গুরুতর থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া হিসাবে বিবেচিত হয়।

আনুচক্রিকা সংখ্যা কম এবং রক্তক্ষরণের লক্ষণ প্রকাশ পেলে তবেই প্লেটলেট প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়। অন্যথায় সংক্রমণ কমার সাথে সাথে আমাদের শরীরে স্বাভাবিক ভাবে প্লেটলেট কাউন্ট বৃদ্ধি পায়।

আনুচক্রিকা বা প্লেটলেট কি?

প্লেটলেটগুলি অস্থি মজ্জা থেকে উৎপন্ন হয় এবং আমাদের রক্তে সঞ্চালিত হয়। তাদের প্রাথমিক কাজ রক্তপাত প্রতিরোধ করা । যদি একটি রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে শরীর প্লেটলেটগুলিতে সংকেত পাঠায় , আনুচক্রিকা গুলি আহত স্থানে পৌঁছে যায় এবং রক্ত তঞ্ছন করে।

ডেঙ্গু কেন প্লেটলেট ধ্বংস করে?

গবেষণা থেকে জানা গেছে, ডেঙ্গু রোগের তীব্র পর্যায়ে অস্থি মজ্জা হাইপোপ্লাসিয়াকে প্ররোচিত করতে পারে ।হাইপোপ্লাসিয়া হল একটি অঙ্গ বা টিস্যুর অসম্পূর্ণ বিকাশ।

ডেঙ্গুতে থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া হয, অস্থি মজ্জা থেকে কোষের উৎপাদন হ্রাস হয়। অস্থি মজ্জা যতো নতুন আনুচক্রিকা তৈরি করতে পারে তার চেয়ে দ্রুত পেরিফেরাল সঞ্চালন থেকে আনুচক্রিকা গুলি নির্মূল হয়।

প্লেটলেটগুলি অস্থি মজ্জা থেকে উৎপন্ন হয় এবং আমাদের রক্তে সঞ্চালিত হয়। তাদের প্রাথমিক কাজ রক্তপাত প্রতিরোধ করা এবং বন্ধ করা। যদি একটি রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে শরীর প্লেটলেটগুলিতে সংকেত পাঠায় যা তাদের আহত স্থানে ভ্রমণ করে।

ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা :

এ ক্ষেত্রে বিশেষ কোন ওষুধ বা প্রতিষেধক এখনো পর্যন্ত আবিস্কার করা সম্ভব হয়নি । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঘরোয়া চিকিৎসাতেই কমে যায়। চিকিৎসকরা পেরাসিটামিল জাতীয় ওষুধ দিয়ে যন্ত্রণা এবং জ্বরের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রদাহ-প্রতিরোধী ওষুধের রক্ত ক্ষরণের সম্ভাবনা নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

ডেঙ্গু গুরুতর হলে রোগী কে হসপিটালে ভর্তি এবং ডাক্তারি নজরদারি তে রাখা একান্ত জরুরী। হসপিটালে ডেঙ্গু রোগীদের সেলাইন দেওয়া হয়। এতে শরীরে প্রয়োজনীয় জল এবং লবণের যোগান বজায় থাকে।

ঘরোয়া প্রতিকার :

মশার কামড়ের হাত থেকে নিজেকে এবং আপনার পরিবার কে বাঁচান।

বাড়ির চারপাশে জল জমতে দেবেন না। জমা জলে মশারা বংশবিস্তার করে। সপ্তাহে অন্তত একবার জল জমতে পারে এমন জায়গা পর্যবেক্ষণ করুন। এবং গাছের টব, ফুলদানি, পরে থাকা গাড়ির টায়ারের জমে থাকা জল ফেলে দিন।

শরীর ঢাকা জামা কাপড় যেমন লম্বা-হাতা শার্ট, লম্বা প্যান্ট, মোজা এবং জুতা পরুন।

ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী মশা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। এই সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন।

রাতে শোবার সময় মশারী ব্যবহার করুন।

মশা নিরোধক কেমিক্যাল ব্যবহার করুন।

ডেঙ্গু জ্বরের রোগীদের জন্য খাবার :

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের জন্য খাবার আবসই সহজ পাচ্য হতে হবে । কিছু পুষ্টি উপাদান বিশেষ ভাবে উপকারী হতে পারে, যেমন

ভিটামিন সি (ফল, এবং শাক-সবজিতে পাওয়া যায়),

জিঙ্ক (সামুদ্রিক খাবার, মটরশুটি এবং বাদামে পাওয়া যায়)

আয়রন (মাংস, মটরশুঁটিতে পাওয়া যায়)

ওটমিল (সহজপাচ্য শর্করা এবং ফাইবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ)

পেঁপে

নারিকেলের জল

সেই সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে জল পান করা দরকার শরীর কে হাইড্রেট করার জন্য।

ডেঙ্গু হলে অনুচিত খাবার

সহজে হজম হয়না এমন খাবার ডেঙ্গু রোগী দের খাওয়া উচিত নয়। যেমন –

আমিষ খাবার

চর্বি যুক্ত খাওার

তৈলাক্ত খাবার এবং ভাজাভুজি ।

ডেঙ্গু হয়েছে বলে সন্দেহ হলে তখন আপনার কি করা উচিত?

নিজের উপর এক্সপেরিমেন্ট না করাই ভাল যদি আপনি নিজে ডাক্তার না হন । বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিন ।  শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাস উপস্থিত রয়েছে কিনা দেখার জন্য একটি ব্লাড টেস্ট করতে হতে পারে ।

নিজে গিয়ে ডেঙ্গুর অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করাতে পারেন । সাধারণত, ডেঙ্গু নিজে থেকেই সেরে যায় এবং এর জন্য কোন বিশেষ ওষুধ নেই, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে ।

নিম্নলিখিত সতর্কতাগুলি অনুসরন করা উচিত –

প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার ।

বেশি জ্বর উঠলে জ্বর কমানোর জন্য কপালে একটি ভেজা কাপড় রাখবেন।

বাচ্চার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন আপনার বাচ্চা যেন প্রচুর পরিমাণে উষ্ম পানীয় গ্রহণ করে।

পেপর জুস খুব উপকারী। এর মাত্রার বিষয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।

ডিহাইড্রেশন আটকানোর জন্য বাচ্চাকে ইলেক্ট্রোলাইট / ও.আর.এস. পাউডার খাওয়ানো  যেতে পারে।

এই সময় যথেষ্ট বিশ্রাম নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ  –  বাচ্চা যেন খেলাধুলো না করে এবং মোবাইল/টিভি/আই প্যাড ইত্যাদি না দেখে।

বাচ্চাকে গল্প বলা কিংবা গান গাওয়ার মাধ্যমে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করবেন।

বাচ্চাকে খুশী ও ব্যস্ত রাখার আরেকটি উপায় হল বোর্ড গেম খেলা।

আপনার বাচ্চা যে ঘরে থাকছে, সেই ঘরের মশা যাতে না ঢুকতে পারে সে বিষয় খেয়াল রাখুন ।

মশা বিতাড়কের স্যুইচ অন করে রাখা ভাল তবে ছোট্ট বাচ্চা যে ঘরে থাকে সে ঘরে একদম ব্যাবহার করবেন না।

One thought on “Dengue fever and symptoms in kids. শিশু দের উপর ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে । উপসর্গ, প্রতিকার এবং করনীয় সম্বন্ধে জানুন এবং নিরাপদে থাকুন”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *